বাংলাদেশের মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (সিএমএসএমই) জন্য সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য অর্থায়নের সুযোগ আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি-এর মধ্যে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হয়। এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের সিএমএসএমই খাতে অর্থায়ন কাঠামো আরও শক্তিশালী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হলো বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এসএমই ফাউন্ডেশনের আওতাধীন ক্রেডিট হোলসেলিং প্রোগ্রামের রিভলভিং ফান্ড কার্যক্রম বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তা, ক্লাস্টারভিত্তিক শিল্প, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল এবং পরিবেশবান্ধব (গ্রিন) উদ্যোগসহ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতে অর্থায়ন আরও সহজ, দ্রুত এবং কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
এছাড়াও, জাইকা (JICA) অর্থায়িত ফুড ভ্যালু চেইন প্রকল্পের আওতায় এই অংশীদারিত্ব দেশের কৃষি ও খাদ্যভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নূরুন নাহার এবং উইমেন এন্ট্রাপ্রেনিউর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি নাসরীন ফাতেমা আউয়াল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব ও এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন মোঃ ওবায়দুর রহমান।
চুক্তিতে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি-এর পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়রা আজম এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী স্বাক্ষর করেন। এ সময় লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি-এর পক্ষ থেকে আরও উপস্থিত ছিলেন মোঃ কামরুজ্জামান খান, হেড অব সিএমএসএমই ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ডিভিশন এবং মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিন, প্রিন্সিপাল অফিসার, সিএমএসএমই ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ডিভিশন।
এই চুক্তির মাধ্যমে দেশের সিএমএসএমই খাতে টেকসই প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স পিএলসি-এর মাধ্যমে প্রান্তিক, উদীয়মান ও সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে। এর ফলে সিএমএসএমই খাতে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সহায়তা কাঠামো গড়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।



